• শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্রজেন্দ্রগঞ্জ রাম চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় দিরাইয়ে নুরুল হুদা মুকুট ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন মাহমুদুল হাসান চৌধুরী সিরাজের ঈদ শুভেচ্ছা সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জিতু’র ঈদ শুভেচ্ছা আলহেরা জামেয়া ইসলামিয়া ফাজিল(ডিগ্রি) মাদ্রাসায়, ১মাস কুরআন প্রশিক্ষণ শেষে পুরস্কার বিতরণ দিরাইয়ে বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল সিলেট মহানগর ৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ইফতার বিতরণ মুক্তি পেলো আশিক সরকারের নতুন গান ‘ভুইল না আমায়’ ব্রজেন্দ্রগঞ্জ স্কুলের সভাপতি হলেন আজিজুল

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাননি শরিফা বেগম

নিউজ ডেস্ক:-
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

শরিফা বেগম। বয়স ৩৪। গত ২১ বছর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে দিনাজপুরে বিয়ে হয় দরিদ্র ঘরের এই শরিফা বেগমের। বিয়ের পর থেকেই নেশাগ্রস্ত স্বামীর ঘরে নির্যাতনের শিকার হতে হয় তাকে। এক প্রতিবন্ধীসহ তিন সন্তানের জন্ম দেন তিনি। তারপর আরো বেড়ে যায় নির্যাতনের মাত্রা। এভাবেই প্রাণভয়ে ছাড়তে হয় স্বামীর ঘর। বর্তমানে শরিফা তিন সন্তান নিয়ে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৬নং দৌলতপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে বাবা শহিদুলের ঝুপড়িঘরেই থাকছেন। পিতার ঘরটিও অন্যের জায়গায় নির্মিত। তাই কোনোভাবেই দুশ্চিন্তার শেষ দেখছেন না শরিফা বেগম। 

শরিফার বেগমের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম (১৯) শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে স্থানীয় গোয়ালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে। মেয়ে আলফা বেগম চতুর্থ এবং ছোট ছেলে শিশু শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। অনেক মিনতি করে মিলেছে প্রতিবন্ধী ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডটি।

জানা যায়, স্বামী পরিত্যক্তা শরিফা বেগমের ভাগ্যে জোটেনি স্বামী পরিত্যক্তা ভাতার কার্ড। মেলেনি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়িও। অন্যের বাসাসহ ফসলি জমিতে কাজের সাড়া পেলেই ছুটে যান তিনি। সেখান থেকে যা রোজগার হয় তা দিয়েই কোনোমতো আহার জুটিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা করান। সম্প্রতি একটি গাভী এলাকার এক পরিবার থেকে আদি নিয়েছেন শরিফা বেগম।

প্রতিবেশী আবু বক্কর ও সাইদুল ইসলাম বলেন, শরিফা বেগমের বাপ-দাদারাও অর্থাভাবে অন্যের জমিতে ঝুপড়িঘর বানিয়ে থেকে আসছেন। শরিফা বেগমের বাবা অন্যের সহযোগিতা নিয়ে ধুমধামে বিয়ে দেন তার। মাদকাসক্ত জামাইয়ের নির্যাতনে সংসার করা হয়নি। বর্তমানে সে তার বাবার বাড়িতেই থাকছে এবং নিজেই রোজগার করে চলছে। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঘর দিল, সেখানে শরিফাও আবেদন করে কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতায় মেলেনি ঘর।

শরিফা বেগমের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ছোট থেকে অভাবের সংসারে মেয়েকে বড় করে সুখের আশায় বিয়ে দেই। কিন্তু সুখ আর জুটল না। এমনিতেই আমরা অন্যের জায়গায় থাকি। তারপরও মেয়েসহ নাতি-পুতিদের নিয়ে আরো মাথায় বোঝা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘর যদি মেয়েকে দেয়া হতো তাহলে সে সেখানে সুখে থাকতে পারত। আমি চেয়ারম্যানের নির্বাচনের সময় আজিজ চেয়ারম্যানের বিপক্ষ প্রার্থীর পেছনে খাটার জন্য আজিজ চেয়ারম্যান আমাদের কোনোপ্রকার সাহায্য-সহযোগিতা করে না।

শরিফা বেগম বলেন, স্বামী ছেড়ে দেয়ার পর থেকেই বাবার ঝুপড়ি বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছি। অনেক আকুতি-মিনতি করে প্রতিবন্ধী ছেলের ভাতার কার্ড করিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘর দিল। কিন্তু সেই ঘর কপালে জুটল না। বহুবার আবেদন করেছি। কয়েকবার চেয়ারম্যানের দ্বারে গিয়ে কান্নাকাটি করেছি। তবুও ঘরের তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছে আজিজ চেয়ারম্যান। কারণ আমার বাবা তার বিপক্ষ প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনে কাজ করেছে। চেয়ারম্যান আমাকে বলেছে, ‘তোর বাবা আমার বিপক্ষে কাজ করেছে নির্বাচনে। যখন তোর বাবার পক্ষের প্রার্থী চেয়ারম্যান হবে তখন সুবিধা ভোগ করিস।’ পরে বলেছে, আমি ফুলবাড়ীর ভোটার না, তাই ঘর দেবে না। আমি এখন ফুলবাড়ীর ভোটার হয়েছি। তাও ঘর দেবে না বলেছে আজিজ চেয়ারম্যান।

৬নং দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ মাস্টার বলেন, শরিফা বেগম একটা বাজে মেয়ে। সে এখনো তালাকপ্রাপ্ত হয়নি। এছাড়াও সে ফুলবাড়ীর ভোটার না। তার ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দিয়েছি। তারপরও সে আমার বিরুদ্ধে কথা বলে। আপনারা কী লিখবেন লেখেন। তার সাথে কথা বলেন, বুঝতে পারবেন সে ভালো মেয়ে না বাজে মেয়ে। আমি বিএনপিসহ যারা আমার বিপক্ষে ভোট করেছে তাদেরও ঘর দিয়েছি। তাকে দিতে আমার সমস্যা কী?

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এখন তো আর প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেয়ার সুযোগ নেই। যদি তাকে কেউ জায়গা দেয় তবে সে জায়গায় ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পের বরাদ্দ এলেই ঘর করে দেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category